দেশে গত জুন মাসে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ২৫১টি। এসব সহিংসতার শিকার বেশিরভাগের বয়সই ১৮ বছরের কম।
২১টি সংবাদমাধ্যমের অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছে ডেটাভিত্তিক কনটেন্ট সাইট ডেটাফুল।
বাংলাদেশের নারী সহিংসতার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরতে গত এপ্রিলে ‘ভাওট্র্যাকার ডটকম’ ওয়েবসাইট চালু হয়। ‘ডেটাফুল’, সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ’, ‘সুপ্রভাত বাংলাদেশ’ ও ‘উৎস’ নামে একটি সংগঠন এ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।

ডেটাফুলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত জুনে দেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ২৫১টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে ভাওট্র্যাকার। সংখ্যাটা মে মাসের তুলনায় ৬৬টি কম। এসব সহিংসতার ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশই যৌন নিপীড়ন ও প্রাণঘাতী।
ডেটাফুল জানিয়েছে, মে মাসের মতো জুনেও সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী নারী ও কন্যাশিশু, ৮৬ জন। এ মাসে আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ সংখ্যক ১২-১৫ বছর বয়সী শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।
এ মাসে সহিংসতার শিকার হওয়াদের মধ্যে ১২ বছরের কম বয়সী রয়েছে ৩৫ শিশু, ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ৩৮ শিশু, ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে ১৭ শিশু রয়েছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৯ থেকে ২৫ বছরের ২৯ জন, ২৬ থেকে ৩৫ বছরের ৩৫ জন আর ৩৬ বছরের বেশি রয়েছেন ৩৮ জন।

ভাওট্র্যাকার অপরাধীদের বয়সও বিশ্লেষণ করেছে। যেখানে জুন মাসে নারী-কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতায় মোট ২৫১ জন জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে ১১৩ জনের বয়স পাওয়া গেছে। যাদের ৭৫ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের ভেতর। অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪৬ জনকে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সহিংসতার সংখ্যা বিবেচনায় শীর্ষ জেলাগুলির মধ্যে মে মাসের মতো জুনেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম রয়েছে শীর্ষে। শীর্ষে রয়েছে বগুড়াও। এর বাইরে লক্ষ্মীপুরে আটটি, গাজীপুর, মৌলভীবাজার, রাজশাহীতে সাতটি করে, যশোর ও নারায়ণগঞ্জে ছয়টি করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও সুনামগঞ্জ প্রতিটি জেলায় পাঁচটি করে এই সহিংসতা হয়েছে। আর হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এই জেলাগুলোর প্রতিটিতে ঘটেছে চারটি করে।
এছাড়া চাঁদপুর, ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, নেত্রকোণা ও পাবনা জেলায় তিনটি করে আর অন্যান্য জেলাগুলোতে এক থেকে দুইটি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

ভাওট্র্যাকার জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের প্রতি এই সহিংসতার মধ্যে ধর্ষণকেন্দ্রিক ঘটনা ঘটেছে ৭৬টি, যার বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকায়। বান্দরবান, বগুড়া, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, রাজবাড়ি ও শেরপুর এই ১২টি জেলায় দুইটি এবং দেশের ২০টি জেলায় কমপক্ষে একটি করে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভাওট্র্যাকার জুন মাসে ৩২ জন নারীর আত্মহত্যার কথা জানাচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় সর্বাধিক চারটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও পটুয়াখালী জেলায় তিনটি এবং চাঁদপুর, গাইবান্ধা, গাজীপুর, মাদারীপুর, নাটোর ও টাঙ্গাইল জেলায় দুইটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেইসঙ্গে দেশের ১৩ জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে একটি করে।

জুন মাসে মোট ২০টি শারীরিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে ১৬টি জেলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বগুড়ায়, তিনটি এবং বরিশাল ও ঢাকা জেলায় দুইটি করে ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, ঝালকাঠি, খুলনা, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, নওগাঁ, নোয়াখালী, পিরোজপুর ও সুনামগঞ্জে একটি করে শারীরিক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
জুন মাসে যৌন হয়রানির মোট আটটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে বগুড়া, ঢাকা, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, নেত্রকোনা, নোয়াখালী ও পিরোজপুরে।
সবশেষে ভাওট্র্যাকার জানিয়েছে, জুনে হওয়া ২৫১টি অপরাধের মধ্যে ১২০টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ১২টিতে আইনি পদক্ষেপ বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ৬৪টি ঘটনায় বলা হয়েছে ‘তদন্ত চলমান’ এবং ৪৫টি ঘটনায় বলা হয়েছে আইনি পদক্ষেপ ‘প্রক্রিয়াধীন’। এছাড়া ১০টি ঘটনায় মামলা হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে।



