Beta
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
Beta
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন

Tamim
[publishpress_authors_box]
পাল্লেকেলে থেকে
পাল্লেকেলে থেকে

প্রেস কনফারেন্স রুমে মন খারাপ করেই আসছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সিরিজ জয়ের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পূরণ হয়নি। পূরণ হতে যা দরকার তার কিছুই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের খেলায় মাত্র ৩৯.৪ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয়েছেন মিরাজরা। ২৮৬ রানের লক্ষ্যে নেমে হারলেন ৯৯ রানে।  

ব্যাটিং ব্যর্থতার যে পুরোনো রোগ তা আর সারতে পারেনি বাংলাদেশ। সঠিক ম্যাচ পরিকল্পনার অভাব, রান তাড়ায় সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া, এ সবকিছুর অভাব দেখা যাচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। সেটাই কাল হলো।

মিরাজরা পারলেন না বড় রান তাড়া করতে। পারলেন না লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতেও। এর অনেক আগেই ব্যাটিং ব্যর্থতার পুরোনো রোগে কাটা পড়লেন তারা। বিপক্ষের ব্যাটাররা আগের ইনিংসেই লম্বা সময় ব্যাটিং করার দীক্ষা দিয়ে গেছেন। কিন্তু মিরাজরা তার থেকে কিছুই শেখেননি।

বরং সঠিক ভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বড় শট খেলার প্রবণতায় হতাশা টেনে আনলেন। যখন সিঙ্গেল নিয়ে সাবলীল খেলার কথা তখন পারভেজ হোসেন ইমন (২৮), মেহেদি হাসান মিরাজরা (২৮) বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন।

এমন ভুলের কারণে গড়ে ওঠে না কোন জুটিও। তাওহিদ হৃদয় ৭৮ বলে ৫১ ও জাকের আলি ৩৫ বলে ২৭ রান করে জুটিহীন লড়াইয়ে পর্যদুস্ত হন। তাতে বাংলাদেশ দলও দেখতে পারে না বড় জয়ের স্বপ্ন।

হৃদয়ের আউটে ম্যাচ হার দেখছে বাংলাদেশ

সিরিজ জয়ের স্বপ্নটা শেষ হয়েই গেল বাংলাদেশের। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জাকের আলির শেষ স্বীকৃত ব্যাটিং জুটির দিকে তাকিয়ে ছিল দল। কিন্তু এই জুটি চাপের মুখে ২৯ রানের বেশি করতে পারেনি।

দুশমন্ত চামিরার ইনসুইংগারে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরলেন হৃদয়। ৭৮ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে দলের হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন। ইনিংস লম্বা করতে চেয়েছিলেন যতটা সম্ভব। কিন্তু রান রেটের চাপ তার ওপর প্রভাব ফেলে।

সেই চাপ সামলাতে কিছু হাত খুলে খেলা শুরু করেন হুদয়। ওই সময় বোলিং চেঞ্জ করে লঙ্কান অধিনায়ক আসালাঙ্কা। লম্বা সময় স্পিন খেলার পর হঠাৎ পেস বোলিংয়ের ধাক্কাটা আর নিতে পারেননি হৃদয়। ৫১ রানে তার ফেরায় ৩৩তম ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান বাংলাদেশের।

২০ ওভারে ১০০, তবুও আছে চিন্তা

দারুণ জুটি গড়েছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট পড়ার ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন দুজনে। কিন্তু খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি এই জুটি।

পারভেজ হোসেন ইমনের ভুল শটে জুটি ভাঙ্গে ৪২ রানে। ইমন বিদায় নেন ৪৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে। ওই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ও হৃদয়ের। ৩৯ রানের জুটিতে দলের কঠিন অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টায় তারা।

২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১০২ রান বাংলাদেশের। ৩০ ওভারে আরও ১৮৫ রান চাই। মিরাজ অপরাজিত ২৭ রানে, ওদিকে হৃদয় ব্যাট করছেন ২৫ রানে।

১০ ওভার শেষে পোড়াচ্ছে দুই ভুল

এত সুন্দর শুরু, অথচ এমন সমাপ্তি। বলা হচ্ছে তানজীদ হাসান তামিমের কথা। অসাধারণ তিনটি চারে ১৩ বলেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ১৭ রানে। মনে হচ্ছিল তামিমের ব্যাটে আজ ঝড় উঠবে।

কিন্তু সেই ঝড় আভাষ দিয়েই থেমে গেল। দুর্ভাগ্যজনক আউট হলেন তামিম। আসিথার বলে এলবিডব্লিউ থেকে বাঁচলেন আগের বলে। পরের বলটি একই জায়গায় করেছিলেন আসিথা। তামিমের পায়ে লেগে তা আঘাত করে স্টাম্পে।

এরপর দ্রুতই ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। যার ওপর ভরসা ছিল বড়, তিন ফিরলেন কিছু না করেই। মাত্র তিন বল টিকে কোন রান করার আগেই ফিরলেন চামিরার বলে বোল্ড।

দুই উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান বাংলাদেশের। ১০ ওভার শেষে এ দুটি ভুল পোড়াচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

সিরিজ জিততে হলে বড় রান টপকাতে হবে

পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের ঠিক পেছনেই পাহাড়ের সারি। সেই পাহাড় না হলেও, সিরিজ জিততে হলে বড় রান টপকাতে হবে বাংলাদেশকে। নির্ধারিত ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ২৮৫ রান তুলেছে।

এই মাঠের উইকেটে বড় রান হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাটারদেরও রান পাওয়ার কথা। অথচ ব্যাটিং বিপর্যয়ের পুরোনো ভয়ের সঙ্গী হয়ে থাকবে বাংলাদেশের রান তাড়ায়।

চারিথ আসালাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের ১১৭ বলে ১২৪ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থেকে অনেকটা দূরে সরে যায় বাংলাদেশ। এ দুজনের জুটির আগ পর্যন্ত ভালো অবস্থানেই ছিল সফরকারীরা।

এই জুটি উইকেটে থাকা অবস্থায় শ্রীলঙ্কার তিনশো রান টপকানো সহজ মনে হচ্ছিল। ৪৬ ওভারের দিকে মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ২৪৯ রানে ১২ রান করা জানিথ লিয়ানাগে, ২৫৫ রানে ১১৪ বলে ১২৪ রান করা কুশল মেন্ডিস ও ২৫৯ রানে ৬ রান করা দুনিথ ভেলালেগেকে ফেরান মিরাজ, শামীম ও তাসকিন।

৪৭তম ওভার শেষে তখন লঙ্কানদের রান ৭ উইকেটে ২৫৯। স্বাগতিকদের কম রানে আটকে ফেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ১৪ বলে ১৮ আর দুশমন্ত চামিরার ৮ বলে ১০ রান শ্রীলঙ্কাকে বড় স্কোর এনে দেয়।

দুজনের জুটি ছিল ১৯ বলে ২৬ রানের। ম্যাচ শেষে এ জুটিই না কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মিরাজ ২টি করে আর সাকিব, তানভীর ও শামীম ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

মেন্ডিসের ব্যাটে ভালো অবস্থানে লঙ্কানরা

ইনিংসের প্রথম ২০ ওভারে বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হাত খুলে রান নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কান ব্যাটাররা। তবে ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়তেই ভালো অবস্থানে চলে এসেছে স্বাগতিকরা।

কুশল মেন্ডিসের দায়িত্বশীল ইনিংসে ৩৩ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৭২ রান শ্রীলঙ্কার। মেন্ডিস ৮১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে চারিথ আসালাঙ্কা ৪৫ বলে করেছেন ৪১ রান। ৭৪ বলে ৭৩ রানের জুটি তাদের।

দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের রান-বল জুটিতে ম্যাচে ভালো ভাবে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। ২০ ওভারে মাত্র চারটি চার আসলেও পরের ১৩ ওভারে শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার আরও ২৩টি চার মেরেছেন।

লঙ্কানদের রান আটকে রেখেছে বাংলাদেশ বোলাররা

লাইন টু লাইন বোলিং আর দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে শ্রীলঙ্কার রান আটকে রেখেছে বাংলাদেশ বোলাররা। ২১ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার রা ১০০। উইকেটে অপরাজিত ৪৬ রান করা কুশল মেন্ডিস। জুটিতে যোগ দিয়েছেন চারিথ আসালাঙ্কা।

পাল্লেকেলের উইকেটে রান হয় বলে সুনাম আছে। সেদিকটি মাথায় রেখেই আগে ব্যাটিং নিয়েছে লঙ্কানরা। কিন্তু বাংলাদেশ বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আটকে দিয়েছেন তাদের। লাইন টু লাইন বোলিংয়ে খুব বেশি বাউন্ডারী হাঁকাতে পারেনি লঙ্কান ব্যাটাররা। ২১ ওভার পর্যন্ত মাত্র চারটি চার এসেছে।  

১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার ৫০

আগে ব্যাটিং নিয়ে বড় স্কোর গড়ার লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার। সেই লক্ষ্যে অবশ্য শুরুর ১০ ওভার খুব ভালো কাটেনি তাদের। এই সময়ে মাত্র ৫১ রান নিয়েছে স্বাগতিকরা, হারাতে হয়েছে এক উইকেট।

তানজিম হাসান সাকিব বাংলাদেশকে শুরুতেই ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। তার গ্রুড লেন্থ থেকে  আউট সুইং হওয়া বলটিতে খোঁচা মেরে স্লিপে শান্তকে ক্যাচ দেন মাদুশকা। মাত্র ১ রান করেছেন তিনি।

অবশ্য চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট এলেও জুটি গড়ে এগিয়ে চলছেন পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। ৪১ রানের জুটিতে দুইজনই ২৬ রান করেছেন।

একটি পরিবর্তন নিয়ে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। এই মাঠে তিনশোর বেশি রান আছে ১৫ বার। শ্রীলঙ্কাই এক বছর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে ৩৮১ রান করেছিল।

টস জিতে তাই আগে ব্যাট নিতে দ্বিধা করেনি শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশকে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। বাংলাদেশ সিরিজের শেষ ম্যাচে একটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে।

দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলা হাসান মাহমুদ বাদ পড়েছেন একাদশ থেকে। সিরিজ বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতায়।

বাংলাদেশ : তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), শামীম হোসেন, জাকের আলি, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানভীর ইসলাম, তানজীম হাসান সাকিব।

শ্রীলঙ্কা : নিশান মাদুশকা, পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিন্দু মেন্ডিস, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, দুনিথ ভেলালেগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহিশ থিকসানা, দুশমন্ত চামিরা, আসিথা ফার্নান্দো।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found