Beta
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
Beta
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সিইসি আউয়াল

আদালতে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
আদালতে সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
[publishpress_authors_box]

অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে বিএনপির করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার এ মামলায় তিন দিন রিমান্ড শেষে রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ মাজেদুর রহমান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় সিইসি ছিলেন। তার বিদায়ের পর সিইসির দায়িত্বে আসেন সাবেক সচিব আউয়াল। তার নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছিল।

বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। তার আট মাসের মধ্যে আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতন ঘটে।

এরপর মেয়াদ থাকলেও হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন অভ্যুত্থানের পরের মাসে পদত্যাগ করে।

তার প্রায় ১০ মাস পর গত ২২ জুন বিএনপি নেতা মো. সালাহ উদ্দিন খান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন, যাতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ তুলে আসামি করা হয় সাবেক তিনজন সিইসিসহ ২৪ জনকে।

সেদিন মামলার পর ঢাকার উত্তরার বাড়িতে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন সাবেক সিইসি নূরুল হুদা, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে।

নূরুল হুদাকে গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতের মাধ্যমে চার দিনের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গত ২৫ জুন ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

২৫ জুনই এ মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণামূলক বিশ্বাস ভঙ্গের ধারা যুক্ত করা হয়।

আবেদন বলা হয়, “আসামি কাজী হাবিবুল আউয়াল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

“দায়িত্ব পালনকালে তিনি সম্পূর্ণভাবে জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করেছেন এবং নির্বাচন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলে তৎকালীন সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ উল্লেখিত নির্বাচন কমিশনাররা পূর্ণ সহায়তা করে গত বছরের ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা করেন।

“নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া হলেও গ্রেপ্তারকৃত আসামিসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারা ও নির্বাচন কমিশন ভবনে কর্মরত সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা মিলে প্রহসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষের ডামি স্বতন্ত্রপ্রার্থী দ্বারা এবং জাতীয় পার্টিকে কয়েকটি পদ দিয়ে প্রহসনের জাতীয় নির্বাচন পর্ব শেষ করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, “আসামি সংসদ সদস্যদের বিজয় ঘোষণার সময় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে উল্লেখ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ ডামি প্রার্থী কিছু সদস্য ও জাতীয় পার্টির কিছু সদস্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন।

“আসামি সংবিধান লঙ্ঘন করে ও নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যোগসাজশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাবিবুল আউয়াল এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামির জামিনের বিরোধিতা করছি। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। মামলাটি সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে জেল হাজতে আটক রাখার আবেদন প্রার্থী।”

এই মামলার আসামির তালিকায় থাকা সাবেক সিইসিদের মধ্যে অন্যজন হলেন কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনিও সাবেক সচিব। সিইসি হিসাবে তার দায়িত্বকাল ছিল ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

কাজী রকিব নেতৃত্বাধীন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচন অধিকাংশ দল বর্জন করায় অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনের পর ‘বিনা ভোটে এমপি’ কথাটি ছিল আলোচিত।

কাজী রকিবের বিদায়ের পর সিইসির দায়িত্ব পাওয়া নূরুল হুদার চ্যালেঞ্জ ছিল সব দলকে ভোটে আনা। তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন। তবে গোল বাধে ভোটের দিন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগ ওঠে। তাতে ‘দিনের ভোট রাতে’ কথাটি পরিচিতি পায় সব মহলে।

গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে নেওয়ার পর নূরুল হুদা অবশ্য দাবি করেন, নির্বাচন বিতর্কিত হলে তার দায় এককভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপানো চলে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found