অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সেবা প্রদানে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক, বর্তমান বিনিময় হার (১ ডলারে ১২২.৬৬ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় শুক্রবার বিশ্ব ব্যাংক সদরদপ্তরে এক বোর্ড সভায় বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতার জন্য এই ঋণ সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হয়।
শনিবার বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই ঋণ দিয়ে ‘স্ট্রেংদেংনিং গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল রেজিলিয়েন্স ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক বোর্ড সভায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দুই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৯০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে ব্যাংক খাত স্থিতিশীলকরণ ও সংস্কারে ৫০ কোটি ডলার এবং জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ৪০ কোটি ডলার দিচ্ছে সংস্থাটি।
এ হিসাবে দুই দাতা সংস্থার কাছ থেকে দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ১৪০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল।
বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা প্রকল্প সহায়তার পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনে বাজেট সহায়তাও দিয়ে থাকে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বিনিয়োগ হিসেবে সহায়তা দেয় তারা। এছাড়া সরকারকে নগদ অর্থ হিসেবে বাজেট সহায়তা দেয়। এই অর্থ সরকার নিজের মতো করে খরচ করতে পারে।
তবে দুই ক্ষেত্রেই নানা ধরনের সংস্কারের শর্তও থাকে। বাজেট সহায়তা ঋণে প্রকল্প ঋণের চেয়ে নমনীয় শর্ত থাকে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট সহায়তার আশ্বাস দেয়।
আগামী ৩০ শেষ হতে যাওয়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘স্ট্রেংদেংনিং গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল রেজিলিয়েন্স ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক খাতের সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে এই তহবিল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গেইল মার্টিন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্মুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে আরও ভালোভাবে তারা জনগণের সেবা করতে পারে।
তিনি বলেন, এই অর্থায়ন সরকারের নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালাবে, যা সবার জন্য একটি শক্তিশালী, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলবে।
গত সপ্তাহে বিশ্ব ব্যাংক আরেক প্রকল্প অনুমোদন দেয় জানিয়ে গেইল মার্টিন বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে সহায়তা করছে।



