Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রোস্টেট ক্যানসারের আদ্যোপান্ত

cancer 2
[publishpress_authors_box]

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অস্থিতে ছড়িয়ে পড়া একটি “আক্রমণাত্মক ধরনের” প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে। রবিবার তার ব্যক্তিগত দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে, জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে প্রতি বছর অনেক পুরুষ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই হার খুব একটা কম না। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ক্যানসারের বিস্তারিত।

প্রোস্টেট ক্যানসার কী

প্রোস্টেট হলো পুরুষদের প্রজনন অঙ্গের একটি ছোট, আখরোটের আকারের গ্রন্থি। এটি মূত্রাশয়ের ঠিক নিচে অবস্থান করে। এই গ্রন্থি এমন এক ধরনের তরল তৈরি করে যা শুক্রাণুর সঙ্গে মিশে বীর্য তৈরি করে।

প্রোস্টেট ক্যানসার তখনই শুরু হয়, যখন প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতরে কোষগুলি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এই ক্যানসার চিকিৎসা না করা হলে তা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। তখন একে মেটাস্ট্যাটিক বা উন্নত প্রোস্টেট ক্যানসার বলা হয়।

‘আগ্রাসী’ প্রোস্টেট ক্যানসার কী

প্রোস্টেট ক্যানসারকে ‘গ্লিসন স্কোর’ নামের একটি স্কেলের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। এই স্কোর ৬ থেকে ১০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি নির্ধারণ করে যে ক্যানসারের কোষগুলো স্বাভাবিক কোষের তুলনায় কতটা ভিন্ন।

স্কোর যদি ৬ বা ৭ হয়, তাহলে সেই ক্যানসারকে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রাসী ধরা হয়। এ ধরনের কোষগুলো দেখতে অনেকটা সুস্থ কোষের মতো থাকে। ফলে এগুলো ধীরে ধীরে ছড়ায়।

গ্লিসন স্কোর ৮ বা তার বেশি হলে সেটি বেশি আগ্রাসী ধরা হয়। এসব কোষ সুস্থ কোষ থেকে অনেকটাই আলাদা হয়ে যায়।

কী কী উপসর্গ দেখা দেয়

প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে, এমনকি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধরনের ক্ষেত্রেও, কোনও উপসর্গ দেখা না-ও দিতে পারে। তবে টিউমার বড় হলে প্রস্রাবে ও বীর্যে রক্ত দেখা যাওয়া, বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা, বিশেষ করে রাতে, প্রস্রাব শুরু করতে অসুবিধা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

আগ্রামী বা ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, পিঠে ও হাড়ে ব্যথা, যৌন দুর্বলতা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

কারণ কী

বয়স বাড়া, স্থূলতা, জাতিগত পটভূমি ও পারিবারিক ইতিহাস প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মনে করা হয়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। এই ক্যানসার তখনই শুরু হয়, যখন প্রোস্টেটের কোষগুলোর ডিএনএতে পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের ফলে কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে ও দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে।

কীভাবে ধরা পড়ে প্রোস্টেট ক্যানসার

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পিএসএ (প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) এর মাত্রা মাপা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশনও একটি প্রচলিত স্ক্রিনিং পদ্ধতি।

আরও বিস্তারিত পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে; প্রোস্টেট টিস্যুর বায়োপসি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং)। ক্যানসার উন্নত বা বেশি আগ্রাসী বলে সন্দেহ হলে হাড়ের স্ক্যান, সিটিস্ক্যান, প্রস্রাব পরীক্ষাও করা হয়।

কী কী চিকিৎসা রয়েছে

চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের মাত্রা, রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পছন্দের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ের, ছোট ও ধীরে ছড়ানো ক্যানসারের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হতে পারে।

তবে আরও আগ্রাসী ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে; অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রোস্টেট অপসারণ, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি, লক্ষ্যনির্ভর ওষুধ (যেমন পিএসএমএ প্রোটিন নির্ভর চিকিৎসা) ও ইমিউনোথেরাপি।

ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে তা চিকিৎসা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সব টিউমারকে ওষুধে পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।

বেঁচে থাকার হার কত

বেঁচে থাকার হার নির্ভর করে ক্যানসারের স্তর, রোগীর বয়স ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির (এসিএস) মতে, প্রতি বছর প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ প্রোস্টেট ক্যানসারে মারা যান।

৬৫ বছরের নিচের পুরুষের মধ্যে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। কিন্তু যাদের বয়স ৮০ বছরের ওপরে, তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৫ শতাংশ। ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে।

তবে ভালো খবর হলো, প্রোস্টেট ক্যানসার সাধারণত দ্রুত ধরা পড়ে ও এটি ধীরে বাড়ে। ফলে অধিকাংশ রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করা যায়।

প্রোস্টেট ক্যানসার কতটা সাধারণ

প্রোস্টেট ক্যানসার বিশ্বের অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। প্রতি আটজন পুরুষের মধ্যে একজন জীবদ্দশায় এই রোগে আক্রান্ত হন।

২০২১ সালে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, আমেরিকায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৯টি নতুন প্রোস্টেট ক্যান্সারের কেস ধরা পড়ে। আর ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ হবে বলে অনুমান করছে এসিএস।

ক্যানসারের হার বাড়লেও আগেভাগে ও উন্নত স্ক্রিনিংয়ের ফলে চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেড়েছে। বর্তমানে আমেরিকায় প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন পুরুষ প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরও বেঁচে আছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত