Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাইডেন প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত

Biden
[publishpress_authors_box]

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অস্থিতে ছড়িয়ে পড়া একটি “আক্রমণাত্মক ধরনের” প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে। রবিবার তার ব্যক্তিগত দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে, জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

৮২ বছর বয়সী বাইডেনকে সম্প্রতি চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করেন। তার প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর প্রোস্টেটে একটি গাঁটের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এখন বাইডেন ও তার পরিবার চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।

বাইডেনের অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি রোগের বেশ আক্রমণাত্মক রূপ হলেও এটি হরমোন-সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করছেন।”

প্রোস্টেট ক্যান্সারের তীব্রতা বোঝাতে গ্লিসন স্কোর ব্যবহার করা হয়। এটি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত একটি স্কেল, যা ক্যানসার কোষের স্বাভাবিক কোষের সঙ্গে পার্থক্য নির্ধারণ করে। বাইডেনের স্কোর ৯। অর্থাৎ এটি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক স্তরের ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত।

প্রোস্টেট ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে তা সাধারণত হাড়ে পৌঁছায়। এই ধরনের মেটাস্টাটিক ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অনেক বেশি জটিল। কারণ ওষুধের জন্য শরীরের সব টিউমারে পৌঁছানো এবং সম্পূর্ণভাবে ক্যানসার নির্মূল করা কঠিন হয়।

তবে যেসব প্রোস্টেট ক্যানসার হরমোনের ওপর নির্ভর করে, যেমন বাইডেনের ক্ষেত্রে। সেগুলোকে চিকিৎসা করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইডেন ও তার স্ত্রী জিল বাইডেনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “মেলানিয়া ও আমি জো বাইডেনের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত খবর শুনে ব্যথিত। আমরা জিল বাইডেন ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং জো’র দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করি।”

ট্রাম্পের এই বার্তায় তার সাধারণত ব্যবহৃত কৌশলের বাইরে একটি সদয় ও ব্যক্তিগত স্বর লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বাইডেনকে “জো” নামে উল্লেখ করেছেন। এটি বাইডেনের পক্ষ থেকে আগের বছর ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনার পর “ডোনাল্ড” নামে সম্বোধনের প্রতিফলন।

জো বাইডেনের আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সোশাল মিডিয়া এক্সে লিখেছেন, তিনি ও তার স্বামী ডাগ এমহফ এই খবর শুনে দুঃখিত। তিনি আরও লেখেন, “জো একজন সংগ্রামী – আমি জানি, তিনি সবসময় যেভাবে সাহস, সহনশীলতা ও আশাবাদের সঙ্গে তার জীবন ও নেতৃত্ব পরিচালনা করেছেন, তেমনি এবারও এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাইডেনের দ্রুত ও সফল চিকিৎসার কামনা করেছেন।

বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাজিত করেছিলেন। তবে তার বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কারণে পরের নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়ান ও কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেন।

বাইডেনের চেয়ে মাত্র তিন বছর কম বয়সী ট্রাম্প হ্যারিসকে পরাজিত করে গত জানুয়ারিতে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।

এ সময় বিগত নির্বাচনে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক জেক ট্যাপার ও অ্যালেক্স থম্পসনের প্রকাশিত হতে যাওয়া বই ‘অরিজিনাল সিন’ এ দাবি করা হয়েছে, বাইডেনের স্বাস্থ্য ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে হোয়াইট হাউস একটি গোপনীয়তা বজায় রেখেছিল।

২০০ জনেরও বেশি সহকারী, অভ্যন্তরীণ সূত্র ও কংগ্রেস সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই বইটি লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রায়ই কথার সূত্র হারিয়ে ফেলতেন, নাম মনে রাখতে কষ্ট হতো, অসংলগ্ন বক্তব্য দিতেন এবং এমনকি জর্জ ক্লুনির মতো তারকাদের চিনতেও পারতেন না।

বাইডেন পুনর্নির্বাচিত হলে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হতে পারে বলেও সহকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কারণ তার শারীরিক দুর্বলতা ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি।

মাত্র দুই দিন আগেই ট্রাম্প একটি সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে “অসহায় ও মানসিকভাবে দুর্বল” বলে উপহাস করেন। এটি বাইডেনের ২০২৩ সালের একটি সাক্ষাৎকারের অডিও ফাঁস হওয়ার পরের মন্তব্য। সেখানে বাইডেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার কথা মনে করতে পারেননি। যদিও সম্প্রতি বাইডেন সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, তিনি সেবাদানে এখনও যোগ্য এবং তার বয়স কোনও বাধা নয়।

বাইডেন এর আগেও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তার শরীর থেকে একাধিক নন-মেলানোমা স্কিন ক্যানসার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বুক থেকেও একটি ক্যানসার কোষ অপসারণ করা হয়।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি ক্যানসারে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

২০২২ সালে বাইডেন তার প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে “ক্যানসার মুনশট” কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য ছিল আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার বড় ছেলে বো’র মৃত্যু ক্যানসারে হওয়ার পরে তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন।

বাইডেন অনেক বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত শোক সহ্য করে এসেছেন। ১৯৭২ সালে সেনেটর নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই এক গাড়ি দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী নেলিয়া ও কন্যা নাওমি মারা যান। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি তার একমাত্র জীবিত সন্তান হান্টার বাইডেনকে অস্ত্র ও কর ফাঁকির মামলায় ক্ষমা করে দেন। যদিও এর আগে তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের বহু রাজনীতিবিদ বাইডেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠান। বাইডেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “মিশেল ও আমি পুরো বাইডেন পরিবারকে নিয়ে ভাবছি। ক্যানসারের প্রতিরোধে জো’র অবদান অপরিসীম এবং আমি নিশ্চিত তিনি তার স্বভাবগত সাহস ও দৃঢ়তা দিয়ে এই চ্যালেঞ্জেরও মোকাবিলা করবেন। আমরা তার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করি।”

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পিট বুটিজেজ লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট বাইডেন একজন গভীর বিশ্বাসী ও অসাধারণ ধৈর্যশীল ব্যক্তি। চাস্টেন ও আমি তার ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি।”

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম লিখেছেন, “এই মুহূর্তে আমাদের হৃদয় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তার পরিবারের সঙ্গে আছে। একজন সম্মানজনক, দৃঢ়চেতা ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে তার দীর্ঘ ও সুন্দর জীবন পাওয়া উচিত। আমরা তাকে শক্তি, আরোগ্য ও প্রার্থনা জানাই।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found