গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে তারা জানায় বিপিএলের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির কথা। এরপর আজ (শনিবার) আবারও দুদকের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করল বিসিবিতে।
আজ (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে দুদকের এই দল। এবারের অভিযোগ ছিল নতুন গঠনতন্ত্র, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের বাছাইপর্ব এবং আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তৃতীয় বিভাগ লিগের বাছাইয়ে অনিয়ম খুঁজে পেলেও আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তারা।
এক ব্যাংক থেকে অন্য কয়েকটি ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার নিয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ বললেন, ‘‘সম্প্রতি বিসিবির ফান্ড ট্রান্সফারের একটা খবর এসেছে। আমরা এর রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। যতদূর জানতে পেরেছি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যত জন সিগনেটরির স্বাক্ষর দরকার তাদের স্বাক্ষরেই এই অর্থ ট্রান্সফার হয়েছে। বিভিন্ন জোনে ভাগ করে টাকাগুলো নিরাপদ ব্যাংকে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘ জনতা ব্যাংক থেকে কেন অন্য ব্যাংকে টাকা নিয়ে যাওয়া হল, সেটা আমরা দেখব। আমরা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি, সেটা যাচাই করে আমরা দেখব।’’
দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ তদন্তের প্রাথমিক অবস্থায় অসঙ্গতি পাওয়া নিয়ে বললেন, ‘‘তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের যে বাছাই প্রক্রিয়া সেটা একসময় ছিল বেশ সহজ প্রক্রিয়া। কিন্তু ২০২২ সালের পর কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, সেখানে ২-৩টার বেশি দল অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে এটা অনেক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদের জাতীয় দলের জন্য ভালো খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইনটা খুবই সীমিত হয়ে যায়। এই বিষয়টাকেই আমরা ফোকাস করেছি।’’
বিসিবির গঠনতন্ত্রে অনিয়ম নিয়ে তিনি জানালেন, ‘‘বিসিবি যে গঠিত হয়েছে, এটা একটা গঠনতন্ত্রের আলোকে পরিচালিত হয়, সেই গঠনতন্ত্র কতটা বৈধ এবং সিদ্ধ সেটা আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে গঠনতন্ত্রে কিছু অসঙ্গতি আছে। এখানে গঠনতন্ত্র নিয়ে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেখানে আদালতের একটা রায় ছিল। সেই রায় অনুযায়ী গঠনতন্ত্র সংশোধিত হয়ে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা শেষে আমরা একটা বিষয় খেয়াল করেছি, একটা অর্গানাইজড উপায়ে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল বিসিবি। কিন্তু এই জায়গাতে আমরা অসঙ্গতি পেয়েছি।’’



