মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে সালিশে তিনজনকে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসুদ করিম এ রায় দিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- রাকিবুল হাসান সৌরভ ওরফে সৌরভ প্রধান, শিহাব প্রধান ও রনি বেপারী।
যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছে শাকিব প্রধান, শামীম প্রধান, অনিক বেপারী, রায়হান ও জাহাংগীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীরের। এদের মধ্যে শিহাব, শাকিব ও শামীম আপন তিন ভাই।
২০২১ সালের মার্চের ওই ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন ইমন হোসেন (২২), সাকিব হোসেন (১৯) ও আওলাদ হোসেন (৪০)।
মামলায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলো- জামাল হোসেন প্রধান, রাহুল হোসেন প্রধান, লিমন হোসেন প্রধান, জাহাংগীর হোসেন, ইমরান হোসেন, রোকন উদৌলা রাফসান ওরফে রাফি, তানবীর মোল্লা রামীম, আরবাজ আহম্মেদ রোহান, পরশ প্রধান ও আসাদুল্লাহ আল গালিব।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বিল্লাল হোসেন সাজার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।
রায়ের সময় রনি, শামীম ও শাকিব আদালতে ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডিত অপর আসামিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে থেকে জানা গেছে, রামিমের বোনকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ উত্তর ইসলামপুর এলাকায় আওলাদ হোসেন বাড়ির সামনে অভি, ইমনসহ অন্যদের নিয়ে সালিশে বসেন। সালিশে উভয়পক্ষে আপস করিয়ে দেওয়া হয়।
কিছু সময় পর অভির নেতৃত্বে কয়েকজন ইমন, শাকিব, আলফাজদের ওপর হামলা হয়। ইমন বাঁশ দিয়ে অভিকে আঘাত করতে গেলে তা লাগে সৌরভের। সৌরভের সঙ্গে ইমন ও শাকিবের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা জামাল হোসেন আওলাদ হোসেনের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেন।
রাত ১১টার দিকে আবার সালিশে বসেন তারা। এসময় জামাল হোসেনের লোকজন আওলাদ হোসেন, আফজাল হক, ইমন, শাকিবদের ওপর হামলা করে। অভি ও শিহাব ইমনকে ছুরিকাঘাত করেন। এছাড়া রনি আওলাদ হোসেনকে এবং শিহাব শাকিবকে ছুরিকাঘাত করেন। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গেলে জামালদের লোকজন পালিয়ে যায়।
আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অপর দুইজনকে ঢাকা নেওয়ার পথে শাকিব মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওলাদ হোসেন মারা যান পরদিন।
এ ঘটনায় ২৬ মার্চ আওলাদ হোসেনের স্ত্রী খালেদা আক্তার মুন্সীগঞ্জ থানায় ১২ জনের নামে মামলা করেন। মুন্সীগঞ্জ সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম আলী ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট মামলাটি মুন্সীগঞ্জ আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এক আসামি শিশু হওয়ায় তার বিচার মুন্সীগঞ্জ আদালতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আরেক আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। মামলায় ২৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ ৮ মে ধার্য করেন।


