Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা অতীতে যে পথে কমেছে

POk
[publishpress_authors_box]

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে গত সপ্তাহে ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিরাজ করছে। একইসঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী ও কূটনীতিকদের মনে পুরোনো দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ভারতের জন্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে উরিতে ১৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হলে ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক” চালায়। ওই হামলায় পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হয়।

২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বালাকোটে বিমান হামলা চালায়। ১৯৭১ সালের পর এটি ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের প্রথম বিমান হামলা। এ ঘটনায় পাল্টা হামলা ও আকাশযুদ্ধে রূপ নেয় পরিস্থিতি।

এর আগে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। সেই সন্ত্রাসী হামলায় ৬০ ঘণ্টা ধরে হোটেল, রেলস্টেশন ও একটি ইহুদি উপাসনালয় অবরুদ্ধ ছিল; প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৬৬ জন।

এসব ঘটনায় প্রতিবারই ভারত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এসেছে। ভারত দাবি করে, পাকিস্তান পরোক্ষভাবে এসব গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়। পাকিস্তান অবশ্য এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছে।

২০১৬ সালের পর, বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিমান হামলার পর, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে আক্রমণ ও আকাশপথে হামলা যেন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবারও ভারত এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে তাকে উত্তেজনা বাড়ানো ও সংযম দেখানোর মাঝখানে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যে চলতে হচ্ছে দেশটিকে।

এই ধরনের বারবার ফিরে আসা ঘটনার প্রকৃতি বোঝেন এমন একজন অজয় বিসারিয়া। তিনি পুলওয়ামা হামলার সময় পাকিস্তানে ভারতের হাই কমিশনার ছিলেন। তার স্মৃতিকথা “অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট : দ্য ট্রাবলড ডিপ্লেম্যাটিক রিলেশনশিপ বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান” বইয়ে তিনি এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

পহেলগামে হামলার ১০ দিন পর গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “পুলওয়ামা হামলার পর যা ঘটেছিল, তার সঙ্গে পহেলগামের ঘটনার অনেক মিল রয়েছে।”

তবে তিনি মনে করেন, পহেলগাম একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। উরি ও পুলওয়ামার মতো হামলা সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। কিন্তু পহেলগামে সাধারণ পর্যটকদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন।

এর ফলে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার স্মৃতি আবার জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, “এই হামলায় পুলওয়ামার কিছু দিক আছে। তবে মুম্বাইয়ের প্রভাব আরও বেশি। আমরা আবারও এক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আর ঘটনাগুলো আগের মতোই ঘটতে শুরু করেছে।”

হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। মূল সীমান্ত পারাপার পথ বন্ধ করে দেয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং পাকিস্তানিদের জন্য অধিকাংশ ভিসা বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানিদের কয়েক দিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

সীমান্তে দুই পক্ষের সেনারা মাঝে মাঝে ছোট অস্ত্রে গোলাগুলি করেছে। দিল্লি তার আকাশসীমায় পাকিস্তানের সব ধরনের বিমান চলাচল– বাণিজ্যিক ও সামরিক – নিষিদ্ধ করে। এই পদক্ষেপটি ছিল পাকিস্তানের আগের একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া।

পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভিসা বন্ধ করে দেয় এবং ১৯৭২ সালের একটি শান্তি চুক্তি স্থগিত করে। (কাশ্মীর অঞ্চলটি পুরোপুরি দাবি করে দুই দেশ, কিন্তু এর একেক অংশ আলাদা করে তারা শাসন করে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই কাশ্মীর একটি স্পর্শকাতর এলাকা হয়ে আছে।)

বিসারিয়া তার স্মৃতিকথায় ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। হামলার পরদিন সকালে তাকে দিল্লিতে ডাকা হয়। সরকার তখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

ভারত পাকিস্তানের ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র’ এর মর্যাদা বাতিল করে। এটি ১৯৯৬ সালে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটি পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ফলে কার্যত পাকিস্তান থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ওয়াঘা সীমান্তে স্থলবাণিজ্যও স্থগিত করা হয়।

বিসারিয়া লিখেছেন, তখন আরও অনেক বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে অধিকাংশই পরে বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন, ‘সমঝোতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন ও দিল্লি-লাহোর বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে বৈঠক স্থগিত করা হয়। ঐতিহাসিক কর্তারপুর করিডোর নিয়ে আলোচনাও বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়, সীমান্ত পারাপার বন্ধ করা হয়, ভারতীয়দের পাকিস্তান সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চালাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি লিখেছেন, “আমি ভাবছিলাম, কত কষ্ট করে এই বিশ্বাস গড়ে তোলা হয়েছিল। আর কত সহজেই তা ভেঙে ফেলা যায়। বিশ্বাস গঠনের যেসব পদক্ষেপ বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পনা, আলোচনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছিল, সেগুলো মিনিটের মধ্যেই একটি হলুদ কাগজে কেটে ফেলা যায়।”

২০২০ সালের জুনে আরেক কূটনৈতিক ঘটনার পর ইসলামাবাদে ভারতের হাই কমিশনের জনবল ১১০ জন থেকে কমিয়ে ৫৫ করা হয়। (পাহেলগাম হামলার পর সেটি এখন ৩০ জনে নেমে এসেছে।)

ভারত কূটনৈতিক চাপও বাড়িয়েছিল। হামলার পরদিনই তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় গোখলে ২৫টি দেশের দূতাবাসকে ব্রিফ করেন। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। ভারত দাবি করে, এই গোষ্ঠী হামলার জন্য দায়ী এবং পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।

জইশ-ই-মোহাম্মদকে ভারত, জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই গোষ্ঠী হামলার দায়ও স্বীকার করে।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়। তখন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কমিটিতে জইশ নেতা মাসুদ আজহারের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির দাবি তোলে ভারত। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী তালিকায়’ তাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়।

তখনও সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিল করার চাপ ছিল। ভারত এর পরিবর্তে সিদ্ধান্ত নেয়, চুক্তির বাইরে আর কোনও তথ্য পাকিস্তানকে দেবে না।

বিসারিয়া জানান, মোট ৪৮টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখা হয়, কোন কোনটি স্থগিত করা যায়। দিল্লিতে একটি সর্বদলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

একই সময়ে যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম খোলা ছিল। এর মধ্যে ছিল দুই দেশের সেনাবাহিনীর পরিচালকদের (ডিজিএমও) মধ্যে হটলাইন। এটি সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এছাড়া উভয় দেশের হাই কমিশনগুলোর মাধ্যমেও যোগাযোগ বজায় ছিল। ২০১৯ সালে ঠিক বর্তমান পরিস্থিতির মতোই, পাকিস্তান এই হামলাকে “ভুয়া অপারেশন” বলে দাবি করেছিল।

এই ঘটনার সময় কাশ্মীরে একটি দমন অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি “ওভারগ্রাউন্ড কর্মী” গ্রেপ্তার হন। স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্য লজিস্টিক সহায়তা, আশ্রয় ও গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারে, এই সন্দেহে তাদের আটক করা হয়।

ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জম্মু ও কাশ্মীর সফর করেন এবং হামলার ঘটনার বিস্তারিত ও অভিযুক্তদের বিষয়ে নথি প্রস্তুত করা হয়।

ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়া তাকে জানান, এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া বেশ সীমিত।

বিসারিয়া লেখেন, “তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, কোনও কঠোর পদক্ষেপ আসন্ন, যার পরে কূটনীতির ভূমিকা বাড়বে।”

ভারত প্রথমবারের মতো ১৯৭১ সালের পর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে অবস্থিত জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায়।

ছয় ঘণ্টা পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই হামলায় বহু জঙ্গি ও শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছে। পাকিস্তান এই দাবি দ্রুত অস্বীকার করে। এরপর দিল্লিতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।

পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কারণ তখন পাকিস্তান পাল্টা বিমান হামলা চালায়।

এই হামলার সময় একটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে অবতরণ করেন। তাকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আটক করে। একজন ভারতীয় পাইলটের শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

অজয় বিসারিয়া লিখেছেন, ভারত তখন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ভারতের বার্তা ছিল স্পষ্ট—যদি পাকিস্তান পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে বা পাইলটকে কোনো ক্ষতি করে তবে কঠোর জবাব দেবে।

পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২৮ ফেব্রুয়ারি পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। ১ মার্চ তাকে যুদ্ধবন্দি প্রোটোকল অনুযায়ী ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তান এই ঘটনাকে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে নেওয়া “সদিচ্ছার প্রদর্শন” হিসেবে উপস্থাপন করে।

৫ মার্চ নাগাদ পুলওয়ামা, বালাকোট ও পাইলটের প্রত্যাবর্তনের ঘটনার রেশ কিছুটা কমে আসে। ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা স্থিতিশীল হয়। সেই সময়ে ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতের হাই কমিশনারকে পুনরায় পাকিস্তানে পাঠানো হবে। এতে কূটনীতির পথে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে।

বিসারিয়া লেখেন, “১০ মার্চ আমি ইসলামাবাদে ফিরে যাই, পুলওয়ামা ঘটনার ২২ দিন পর। কারগিলের পর এটিই ছিল সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘর্ষ। আর এটি এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “ভারত আবার কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে রাজি হয়। এই সময়ের মধ্যে ভারত তার কৌশলগত ও সামরিক লক্ষ্য অর্জন করে এবং পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য এক ধরনের বিজয়ের ধারণা তৈরি করে।”

বিসারিয়া এই সময়টিকে “পরীক্ষামূলক ও মুগ্ধকর সময়” হিসেবে বর্ণনা করেন তার স্মৃতিকথায়।

তবে এবারের হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, এবার টার্গেট ছিল ভারতীয় বেসামরিক মানুষ, এবং তা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন কাশ্মীর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল।

তিনি মনে করেন, সংঘর্ষ বৃদ্ধি অনিবার্য। কিন্তু একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর প্রবণতাও বিদ্যমান থাকে। মন্ত্রিসভা কমিটি অন সিকিউরিটি যখন এমন সংকটে বৈঠক করে, তখন তারা অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নেয় এবং এমন পদক্ষেপ খোঁজে, যা পাকিস্তানকে চাপে ফেলবে কিন্তু ভারতের ওপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলবে না।

তিনি বলেন, এইবারও দৃশ্যপট অনেকটা একই রকম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেছেন ভারতের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের হুমকি। ভারত এটি বাস্তবায়ন করলে এর দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর প্রভাব পড়বে পাকিস্তানে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found