Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সিনেমার জগতের অন্ধকার খেলা কী এই হলিউড অ্যাকাউন্টিং?

hollywood-accounting
[publishpress_authors_box]

‘মুভি ব্লকবাস্টার, প্রযোজকের পকেট খালি’—এই কথাটি প্রথম শুনলে হয়তো মনে হবে রসিকতা, কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। হলিউড অ্যাকাউন্টিং নামের এক রহস্যময় হিসাব-নিকাশ পদ্ধতি বহু তারকা, চিত্রনাট্যকার, এমনকি পরিচালককে আর্থিকভাবে ঠকিয়েছে। অথচ দর্শক জানেনই না তাদের প্রিয় সিনেমা কেমন অদ্ভুত আর্থিক গোলকধাঁধার মধ্যে দিয়ে যায়!

কী এই ‘হলিউড অ্যাকাউন্টিং’?

হলিউড অ্যাকাউন্টিং হলো এমন এক ধরনের চোরাই হিসাব পদ্ধতি, যেখানে লাভজনক সিনেমাগুলোকেও কাগজে-কলমে ‘লোকসান প্রকল্প’ বানিয়ে ফেলা হয়। উদ্দেশ্য হলো সিনেমার মুনাফা যাদের সঙ্গে শেয়ার করার কথা—তাদের না দিয়ে স্টুডিও বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পকেটে পুরোটা রেখে দেওয়া।

এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন— সিনেমার চিত্রনাট্যকার, কিছু অভিনেতা, এমনকি কখনো কখনো সহ-প্রযোজকরা, যারা মুনাফার একটি অংশ পাওয়ার চুক্তি করেছিলেন। আর এই শর্তেই অনেকে হয়তো পারিশ্রমিক কমিয়েও নিয়েছিলেন।

কীভাবে এই ফাঁকি চলে?

স্টুডিওগুলো সাধারণত দুটি হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর একটি হচ্ছে মোট মুনাফা ভিত্তিক পদ্ধতি, যেটি তুলনামূলক স্বচ্ছ। অপরটি হচ্ছে নেট মুনাফা ভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে কারচুপির সুযোগ বেশি।

স্টুডিও নিজেরাই নিজেদের কাছ থেকে ‘বিতরণ খরচ’, ‘মার্কেটিং খরচ’, ‘উপদেষ্টা ফি’, এমনকি কখনও ‘স্টুডিও রেন্ট’-এর নামে অর্থ দাবি করে। এতে সিনেমাটি শত কোটি ডলার আয় করলেও প্রকৃত মুনাফা ধরা পড়ে না।

কিছু আলোচিত উদাহরণ

স্টার ওয়ার্সের হিট সিনেমা ‘রিটার্ন অব জেডি’ এই ছবিটি শত কোটি ডলার আয় করেও ‘নেট প্রফিট’-এ লোকসান দেখায়। ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স’— প্রায় ১ বিলিয়ন আয় করেও ওয়ার্নার ব্রোস দাবি করে ছবিটি লাভবান হয়নি!

‘কামিং অব আমেরিকা’ সিনেমা থেকেও চুক্তি অনুযায়ী পরিচালক আল্পসন হার্জোগের কিছুই জোটেনি।

বলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘বাহুবলী ২’ এর আয়ের প্রশ্নেও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিনেমাটি মাত্র কয়েক সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০০০ কোটি রুপি আয় করেছে, যা এক বিরাট রেকর্ড। অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধারই অভিযোগ, প্রকৃত লাভের হিসাব কম করে দেখানোর জন্য ‘হলিউড অ্যাকাউন্টিং’ পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

আইনি লড়াই ও পরিণতি

অনেক নির্মাতা ও লেখক এই কারচুপির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে আর্থার ক্লার্ক ফাউন্ডেশন বনাম ওয়ার্নার ব্রোস এবং ওয়েসলি স্নাইপস বনাম নিউ লাইন সিনেমা মামলার কথা বলা যেতে পারে।

তবে স্টুডিওর পক্ষে থাকে একঝাঁক শক্তিশালী আইনজীবী ও জটিল চুক্তি থাকায় এখানে বরাবরই তাদের জয় হয়েছে।

বিড়ম্বনা এড়াতে আজকের দিনে অনেক চিত্রনাট্যকার এবং তারকা পারিশ্রমিক চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করে নেন। সিনেমার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে এটিকে জড়ান না। তারা মনে করেন, স্টুডিওগুলো ‘নিট লাভ’ দেখানোর সময় সেটিকে আসলে লোকসান হিসেবেই দেখাবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্ট্রিমিং যুগে এই হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত