Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
যাত্রাবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রতিবেশীর মৃত্যুদণ্ড

তার কাছে কোনও নারী ও শিশু নিরাপদ নয় : আদালত

Verdict
[publishpress_authors_box]

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রফিকুল ইসলাম (২৭) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোছাম্মৎ রোকশানা বেগম হেপীর আদালত আসামি রফিকুলের উপস্থিতিতে এ রায় দিয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, “দুই হাত, পা বেঁধে, মুখে কাপড় গুজে, মুখ বেঁধে, ঘাড় মটকিয়ে যেভাবে একটি সাত বছরের ছোট নিরপরাধ শিশুকে নৃশংস ও পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার এবং পৃথিবীর আলো-বাতাস গ্রহণের কোনও অধিকার নেই। কারণ তার নিকট কোনও নারী ও শিশু নিরাপদ নয়। তাকে এই শাস্তির মাধ্যমে এই ট্রাইব্যুনাল সমাজের সবার মাঝে এই দৃষ্টান্ত ও সংবাদ পৌঁছে দিতে চান যে, নারী ও শিশুদের প্রতি এই জাতীয় নৃশংস অপরাধের বিচার হয় এবং হবে।”

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সাজ্জাদ হোসেন (সবুজ) জানান, আসামি রফিকুল কারাগারে ছিলেন। রায়ের আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর ভোর ৬টার দিকে শিশুটি বাথরুমে যায়। সাড়ে ৬টায়ও বাথরুম থেকে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া রফিকুল তার মোবাইল থেকে একাধিকবার কল করে পরিবারকে জানায়, তাদের মেয়ে কোথায় আছে সে তা জানে। পরে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সংযোগ কেটে দেন। তার বাসা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পুলিশের সহযোগিতায় তালা খুলে দেখা যায়, শিশুটির মরদেহ কম্বল দিয়ে পেঁচানো রয়েছে।

ঘটনার পরদিন রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দোষ স্বীকার করেন তিনি।

রফিকুল জানান, মেয়েটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার পথে তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন তিনি। মরদেহ গুম করার জন্য কম্বলে মুড়ে ঘর তাল মেরে পালিয়ে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরে ১৪ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় হয়েছে বৃহস্পতিবার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত