দাবি আদায়ের নামে কেউ রাস্তা অবরোধ করলে কঠোর ব্যবস্থা হবে বলে দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানান তিনি।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “কেউ দাবি আদায়ের নামে রাস্তা আটকাবেন না। সামনে ঈদ, সড়ক অবরোধ করে জনগণের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
এসময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম যারা করবেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
গাজীপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন আইজিপি।
এসময় জনগণের উদ্দেশে পুলিশপ্রধান বলেন, “আপনারা পুলিশকে সহায়তা করুন, পুলিশের কাজের পরিবেশ তৈরি করুন। পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভাববেন না, পুলিশের প্রতি আক্রমণ করবেন না। আমাদেরকে দেশের সেবা করার সুযোগ দিন।”
আইজিপি সরকার ঘোষিত ২০ রমজানের মধ্যে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের ১৫ দিনের আংশিক বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা এই ন্যায়সঙ্গত পাওনা আদায়ের জন্য সকল পক্ষের সাথে আলোচনায় আপনাদের পাশে থাকব।”
আইজিপি বলেন, “আপনারা কোনও ধরনের গুজবে কান দেবেন না। ভাঙচুর করে নিজেদের কর্মস্থলের ক্ষতি হতে দেবেন না।”
বাহারুল আলম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পেশাগত দায়িত্ববোধের জন্য গর্ব হয় জানিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিতের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।
প্রেস বিফ্রিংয়ে সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিএমইএর প্রশাসক, অ্যাডিশনাল আইজিপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, পুলিশ কমিশনার, জিএমপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আয়োজনে এ বিশেষ কল্যাণ সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি মো. আবু কালাম সিদ্দিক, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান।
সভায় পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আইজিপি গভীর মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আইজিপি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে পোশাক শিল্পে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে ও শিল্পাঞ্চলে আইন-মৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কর্মরত সব সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এর প্রসার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, শিল্পাঞ্চল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা অহর্নিশ কাজ করছে। তারা ভবিষ্যতেও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



