মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি জানিয়েছেন, শিশুটির স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, “শিশুটির জিসিএস (গ্লাসকো কোমা স্কেল) লেভেল ৪ থেকে ৩-এ নেমে এসেছে। সিএমএইচের চিকিৎকরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
এসময় শিশুটির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান শফিকুল আলম।
জিসিএস লেভেল হলো একটি ক্লিনিক্যাল স্কেল, যা একজন মানুষের মস্তিষ্কে আঘাতের পর ওই ব্যক্তির চেতনার স্তরের নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চোখের নড়াচড়া, কথা বলা এবং শরীরের নড়াচড়া করার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে জিসিএস মূল্যায়ন করা হয়।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্ট থেকে শিশুটিকে সিএমএইচের পেটিয়াট্রিক আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেসময় সে পুরোপুরি অচেতন ছিল।
শিশুটির জন্য সিএমএইচের প্রধান সার্জনকে প্রধান করে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেছে
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে যে চারজনকে আটক করা হয়েছে তার মধ্যে শিশুটির বোনের স্বামী ও শ্বশুরও রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে শিশুটি মাগুরা শহরে তার বোনের শ্বশুর বাড়িতে বোনের কাছে গিয়েছিল বেড়ানোর জন্য।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পর শিশুকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক নারী। পরে জানা যায় ওই নারী তার বোনের শাশুড়ি। এরপর খবর পেয়ে শিশুটির মাও হাসপাতালে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটির গলায় দাগ ও শরীরে বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় দেখতে পান। চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, শিশুটির যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
অবস্থা ভালো নয় দেখে তখনই মাগুরা হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে শিশুটিকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এর মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির নিপীড়নের অভিযোগ করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বহু মানুষ।
ঘটনার প্রতিবাদে ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার মাগুরা সদরে মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। থানার মূল ফটক ঘেরাও করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি তোলেন।
এর আগে জুমার নামাজ শেষে শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে জমায়েত হয়ে শিশু নির্যাতনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মিছিল বের হয়। এক পর্যায়ে তারা শহরের ভায়না চত্বর বা মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে বিকেল ৩টার দিকে থানার গেইটে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে সেনাসদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।



