Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

এসএ গেমসে সোনা জিতেও ‘যাযাবর’ ফেন্সিং

রাজকীয় খেলা ফেন্সিংয়ের নিজস্ব কোনও ভেন্যু নেই। ছবি: সংগৃহীত
[publishpress_authors_box]

পল্টন শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রেজাউর রহমান সিনহা। ফেন্সিং ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বলেন, “আমি ভয়ে মিরপুর এলাকায় যাই না। আমার লজ্জা লাগে। ফেন্সিংয়ের এত এত খেলোয়াড়, কেউ অনুশীলনের জায়গা পায় না। ওরা ফুটপাতে অনুশীলন করে।”

অথচ ২০১৯ সালে এসএ গেমসে সোনাসহ ১৪টি পদক জিতেছিল ফেন্সিং। ফাতেমা মুজিব জিতেছিলেন সোনা। নেপালে অনুষ্ঠিত গেমসে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে দেন শ্রীলঙ্কার ফেন্সার নিশানি শ্রীকান্ত ফার্নান্দোকে। এরপর ভারতের দিয়ানা দেবীকে হারান। ফাইনালে পাত্তা পায়নি রাভিনা থাপাও। এসএ গেমসে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হওয়া ফেন্সিংয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন বাংলাদেশের ফাতেমা।

যেভাবে খেলে ফেন্সিং

মাস্ক, সাদা জ্যাকেট, গ্লাভস, শু পরে ফেন্সিং খেলতে হয়। দেখে মনে হবে যেন চাঁদের পিঠে তরবারি নিয়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে ব্যস্ত নভোচারী।

ফেন্সিংয়ের সর্বকালের সেরা নারী তারকা ভ্যালেন্তিনা ভেৎসালি। ইতালিয়ান এই ফেন্সার অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন ছয়বার। বিশ্ব ফেন্সিংয়ে ১৪টি সোনা। ফেন্সিংয়ের যেন সমার্থক শব্দই হয়ে গেছে ভেৎসালি। ফ্রান্স থেকে আসা ভেৎসালির এই খেলাটা বাংলাদেশে চালু হয় ২০০৭ সালে। আন্তর্জাতিক আসরে এর আগে ফেন্সাররা অংশ নিলেও বড় সাফল্য পায় এসএ গেমসে।   

ইপি, সেবার ও ফয়েল- ফেন্সিংয়ের তিনটি বিভাগ। সেবারে প্রতিপক্ষকে তরবারি দিয়ে আঘাত করা যায় কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত যে কোনও জায়গায়। তরবারির ডগাটা শরীর ছুঁলেই ফেন্সারের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত কর্ড ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে ভেসে ওঠে পয়েন্ট। প্রতি বাউটে তিন মিনিটের তিনটি করে রাউন্ড। মোট পয়েন্ট ১৫। নয় মিনিটের মধ্যে যে আগে ১৫ পয়েন্ট তুলে নিতে পারেন তিনিই বিজয়ী।

ভেন্যু সঙ্কটে অনুশীলন ব্যহত

মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোরে নিয়মিত অনুশীলন করলেও আপাতত সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্যাম্প করেছে। যে কারণে অনুশীলন ব্যহত হচ্ছে খেলোয়াড়দের।

যদিও বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর খেলোয়াড়েরা নিজেদের মতো অনুশীলন করছেন। কিন্তু রেজাউর রহমান সিনহা বলেন, “অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাইনা আমরা। কিভাবে তাহলে খেলোয়াড়েরা সাফল্য আনবে?”

হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে সপ্তম জাতীয় ফেন্সিং। কিন্তু তিনি জানালেন এই ভেন্যুও অনেক তদবির করে যোগাড় করতে হয়েছে তাদের। যে কারণে দ্রুতই খেলা শেষ করার তাগাদা থাকে তাদের, “অবস্থা এমন যে গভীর রাত পর্যন্ত খেলা চালিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। ভেন্যু খালি করার তাড়া দিচ্ছে আমাদের”

এসএ গেমসে সোনাজয়ী ফেন্সার ফাতেমা মুজিব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জাতীয় আসরেও। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে। ছবি: সংগৃহীত

 আন্তর্জাতিক গেমস নেই দেড় বছর

ফেন্সিং সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ২০২৩ সালের আগস্টে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে। এরপর থেকে কোথাও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ মিলছে না। আন্তর্জাতিক ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশনের অনুমতিও মিলছে না খেলার। কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থার অ্যাফিলিয়েশন না পাওয়াকে দায়ী করলেন ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, “আসলে ওরা (আন্তর্জাতিক সংস্থা) কিছু কোয়ারিজ চেয়েছে। আর তাছাড়া অ্যাফিলিয়েশন ফি বাকি আছে আমাদের। এগুলো পরিশোধ করলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবো আশা করি।”

হতাশ খেলোয়াড়েরা

একে তো অন্য সংস্থার খেলোয়াড়েরা অনুশীলনের সুযোগ পায় না। এর ওপর দীর্ঘদিন পর জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ফেন্সাররা। যদিও নৌ বাহিনীর খেলোয়াড়েরা অনুশীলন করলেও কবে আন্তর্জতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন সেটা নিয়ে আছে শঙ্কা। সোনাজয়ী ফেন্সার ফাতেমা মুজিব হতাশার সুরে বলেন, “আমাদের খেলাটা হলো কলমের মতো। যতো লিখবেন তত সচল থাকবে কলম। যদি অনুশীলন না করি তাহলে খেলার পারফরম্যান্স কমে যাবে। কিন্তু লক্ষ্যবিহীন অনুশীলনেও কোনও ফল নেই। কারণ আমরা জানিই না পরের গেমস কবে?”    

যদিও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তষ্ট ফাতেমা। তিনি এবারও ব্যক্তিগত সাবরে ইভেন্টে জিতেছেন সোনা। ফাতেমা নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, “আমি নিজের খেলায় সন্তষ্ট। কিন্তু এসএ গেমসের জন্য তাকিয়ে আছি। আশা করি যখনই খেলা হোক, নিজের পদক ধরে রাখতে পারব।”

এবারের সপ্তম জাতীয় ফেন্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ আনসার। ৬টি সোনা, ৬টি রুপা ও ৩টি ব্রোঞ্জ জিতেছে তারা। আর ৪টি সোনা, ২টি রুপা ও ৮টি ব্রোঞ্জ জিতে রানার আপ বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found