ঋণের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বলে কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান।
মামলায় অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও পরিচালক আবু তালহা, ঋণের টাকা স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠান এননটেক্স কোম্পানির গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউনুছ বাদল ছাড়াও জনতা ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য ব্যাংকের মর্টগেজ নেওয়া জমিতে বাস্তবে কোনও ভবন/স্থাপনা/ কারখানা না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক মালিক হওয়ার আগে ওই জমিতে স্থাপনা দেখিয়ে মূল্যায়ন করে। স্থাপনাবিহীন জমিকে অতি মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুশাসন লঙ্ঘন করে মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের নামে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়।
জনতা ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা থেকে সিসি ও এলসি মিলে ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের সময় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আবুল বারকাত। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ড. আতিউর রহমান। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৫ সালে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সার্কুলারের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে জনতা ব্যাংক ওই ঋণ মঞ্জুর করে। তারা বিষয়টি জেনেও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদেরকে আসামি করা হয়েছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর পরিবারের নামে মামলা
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে দেশত্যাগ করার আগে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে সেই টাকা কোথাও বিনিয়োগ না করায় মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে দুদক।
বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কমিশনের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানান দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
বেনজীর আহমেদ ছাড়া অন্য অসামিরা হলেন, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর।
বেনজীর আহমেদ তার অপরাধলব্ধ ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে পাচার করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার বলা হয়, গত বছরের ২৪ এপ্রিল কয়েকটি ব্যাংক থেকে চেকের মাধ্যমে নগদে ওই টাকা বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যরা উত্তোলনের পর তা কোথাও বিনিয়োগ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক।
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ ও ৩ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। সেখানে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে আসে।



