Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

চলমান ধারার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সুপারিশ

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ নিয়ে 
সোমবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ নিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
[publishpress_authors_box]

জাতীয় রাজনৈতিক দলের অংশ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্ক ফোর্স।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে টাস্ক ফোর্স কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান কে এ এস মুর্শিদ।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের নির্যাতনসহ নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির সমন্বয়কদের প্রায় সবাই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামের একটি ছাত্র সংগঠনের নেতা ছিলেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের গণমাধ্যমে যে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন, তার ৭ নম্বর দাবি ছিল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ছাত্র সংসদ কার্যকর করা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ওই আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তারপর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে দেশের অন্তত ১৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪টি সরকারি কলেজ ও ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুর্শিদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের টাস্ক ফোর্স কমিটি গঠন করে।

শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ গত ৩০ জানুয়ারি এই টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেন।

ওই প্রতিবেদনে সরকারের কাছে কী কী সুপারিশ করা হয়েছে তা তুলে ধরতেই সোমবার এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এসময় শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে টাস্ক ফোর্স কমিটির প্রধান কে এ এস মুর্শিদ বলেন, “প্রতিবেদনে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এলাইন (অংশ) হয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।”

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ কেন করা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দেশ খুব বেশি উপকৃত হয়েছে বলে আমাদের কমিটি মনে করে না। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে একটা আর্থিক দুর্নীতির দিকে চলে যায়।”

পৃথিবীর কোনও সভ্য দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই দাবি করে টাস্ক ফোর্স কমিটির প্রধান কে এ এস মুর্শিদ পাল্টা সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “একমাত্র আমাদের সাউথ এশিয়া ছাড়া আর কোনও সভ্য দেশে কী আছে? এই রকম ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে দলভিত্তিক পলিটিক্যাল পার্টি থাকবে, এটা কোথায় আছে?

তিনি বলেন, “ছাত্র রাজনীতিতে তাদের মতামত, সামাজিক আন্দোলন নিয়ে তারা সোচ্চার থাকবে। তারা দেশের কাজে এগিয়ে আসবে। এটাইতো আমরা চাই। এজন্য ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।”

এসময় রাজপথের আন্দোলনের সমালোচনা করে কে এ এস মুর্শিদ বলেন, “এই ক্ষেত্র, মানে যদি শাহবাগ আর মহাখালীর মোড় হয়, তাহলে এটা নিয়ে ভাবতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, তিনি মনে করেন, চলমান ধারার ছাত্র রাজনীতি চলতে পারে না। তবে দেশ ও সমাজের কল্যাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা আচরণবিধি মেনে ছাত্র রাজনীতি করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হওয়ার পর এই প্রথম বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ছাত্ররা-ছাত্রীরা ঢুকেছে। ফলে অনেক জায়গা খালি হয়েছে, যাতে বেশি ছাত্র সংকুলান করা গিয়েছে।”

ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচরণবিধি প্রণয়নে জোর দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আচরণবিধি থাকতে হবে। দেশ, সমাজ সবকিছু মিলিয়েই একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের আচরণবিধি তৈরি করে।

“ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ডে যে রকম আচরণবিধি আছে সেটা হয়তো আমাদের দেশে হবে না। কিন্তু ওই একটা কথা বল্লাম আচরণবিধি এলাউ করে সে ধরনের স্টুডেন্ট পলিটিক্স থাকলে খুবই ভালো কথা।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত এই টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদনে সরকারি হাসপাতাল, গ্রামীণ স্কুল, সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ এবং মন্ত্রণালয়গুলোর সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানের একাংশ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির, রপ্তানি বাড়াতে অর্থনৈতিক কূটনৈতিক বিভাগ খোলার, ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found