বহুদিন ধরে চলে আসা একটি ঐতিহাসিক বৈষম্যকে সংশোধন করা হলো লস অ্যাঞ্জেলেসে ৬৭তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে। প্রথমবারের মতো কোনও কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বিয়ন্সে জিতে নিলেন বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদপূর্ণ আসরটির সেরা কান্ট্রি অ্যালবামের পুরস্কার।
তার নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ন্সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেয়ে ব্লু আইভি এবং তারপর তার স্বামী জে-জেডকে আলিঙ্গন করেন। এরপর সোনালী গাউন পরে মঞ্চের দিকে হেঁটে যান পুরস্কারটি নিতে।
তিনি বলেন, “আমি খুব পরিপূর্ণ এবং সম্মানিত বোধ করছি। অনেক, অনেক বছর ধরে এটা (অপেক্ষা) চলছিল।”
গায়িকা তার পুরস্কারটি কান্ট্রি গানে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীতশিল্পীদের অগ্রদূত এবং গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে এককভাবে পরিবেশনকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গায়িকা লিন্ডা মারটেলকে উৎসর্গ করেন। গায়িকা মারটেল ‘কাউবয় কার্টার’- এর বেশ কয়েকটি গানে অংশ নিয়েছেন।
বিয়ন্সে আরও বলেন, “আমি আশা করি আমরা শুধু এগিয়ে যেতে থাকব [এবং] দরজা খুলতে থাকব। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
এই তারকার জয় তার প্রথম গ্র্যামি মনোনয়নের ২৫ বছর পর এলো।
বিয়ন্সে গ্র্যামির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার বিজয়ী শিল্পী এবং তার ঝুলিতে ৩৫টি ট্রফি রয়েছে- কিন্তু প্রধান পুরস্কারটি রোববারের রাত পর্যন্ত অধরাই ছিল।
শেষ পর্যন্ত, টেক্সাসের এই সংগীতশিল্পীকে জয় ছিনিয়ে আনতে এমনকি নিজের সঙ্গীত ঘরানার পরিবর্তন করতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত সেরা গায়িকার পুরস্কার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিয়ন্সে ১৯৯৯ সালের পর এই বছর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে বর্ষসেরা অ্যালবামের পুরস্কারটিও জিতেছেন। ১৯৯৯ সালে লরিন হিলের ‘দ্য মিসএডুকেশন অব লরিন হিল’ এই খেতাব জিতেছিল।
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস সন্ধ্যার শুরুতেই বিয়ন্সের ‘কাউবয় কার্টার” সেরা কান্ট্রি অ্যালবামের গ্র্যামি জিতে নেয়- যা এই গায়িকার কাছে স্পষ্টতই অপ্রত্যাশিত ছিল।
৪৩ বছর বয়সী এই তারকার নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে ওঠে। আরেক শীর্ষ গায়িকা তার হাতে সেরা অ্যালবামের পুরস্কারটি তুলে দেন। টেইলর সুইফটের কাছেই ২০১০ সালে বিয়ন্সে শীর্ষ গায়িকা হওয়ার প্রতিযোগিতায় হার মেনেছিলেন।
বিয়ন্সের পাশাপাশি চ্যাপেল রোয়ানের সেরা নতুন শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশও ছিল চমক। তার ব্যতিক্রমী সঙ্গীতশৈলী এবং শক্তিশালী কণ্ঠ সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছে।
বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত
- অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: বিয়ন্সে- ‘কাউবয় কার্টার’
- রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: কেন্ড্রিক লামার- নট লাইক আস
- সং অব দ্য ইয়ার: কেন্ড্রিক লামার- নট লাইক আস
- সেরা নতুন শিল্পী: চ্যাপেল রোয়ান
- সেরা পপ ভোকাল অ্যালবাম: সাবরিনা কার্পেন্টার- শর্ট এন সুইট
- সেরা পপ সোলো পারফরম্যান্স: সাবরিনা কার্পেন্টার- এসপ্রেসো
- সেরা র্যাপ অ্যালবাম: ডয়েচি- অ্যালিগেটর বাইটস নেভার হিল
- সেরা কান্ট্রি অ্যালবাম: বিয়ন্সে- ‘কাউবয় কার্টার’
- সেরা রক অ্যালবাম: দ্য রোলিং স্টোনস- হ্যাকনে ডায়মন্ডস
- সেরা বিকল্প সঙ্গীত অ্যালবাম: এসটি ভিনসেন্ট- ফ্লিয়া
- সেরা আরএন্ডবি অ্যালবাম: ক্রিস ব্রাউন- ১১:১১
- সেরা লাতিন পপ বা আরবান অ্যালবাম: শাকিরা- লা মুখজেরেস জ্যানো জোরান
- সেরা ভিজুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা গান: জন বাতিস্তের ‘ইট নেভার ওয়েন্ট অ্যাওয়ে’ (আমেরিকান সিম্ফনি)



