বরেণ্য অভিনেতা মাসুদ আলী খান আর নেই।
ঢাকার গ্রিন রোডের নিজ বাসায় বৃহস্পতিবার বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
বয়ঃজ্যেষ্ঠ এই অভিনয়শিল্পী বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কয়েকবার নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকেও দূরে ছিলেন। বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারতেন না। ঘরে বসেই কেটেছে তার শেষ সময়টা।
তার দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন রবিন মণ্ডল। তিনি সকাল সন্ধ্যাকে জানান, মাসুদ আলী খানের এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মাসুদ আলী খানকে কোথায় সমাহিত করা হবে, সে বিষয়ে তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
মাসুদ আলী খানের জন্ম ১৯২৯ সালে ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পারিল নওধা গ্রামে। তার বাবা আরশাদ আলী খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, মায়ের নাম সিতারা খাতুন।
মাসুদ আলী খান ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। দুই বছর পর জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন তিনি।
মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের হাতেখড়ি মাসুদ আলী খানের। ১৯৫৬ সালে তিনি দেশের প্রথম নাটকের দল ড্রামা সার্কেলের সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পরপর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় মাসুদ আলী খানের অভিষেক হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ৫০০ নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ দিয়ে বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয় মাসুদ আলী খানের। তার অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে দুই দুয়ারী, দীপু নম্বর টু, মাটির ময়না।
ব্যক্তিজীবনে মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে বিয়ে করেন তাহমিনা খানকে। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি।
সরকারি চাকুরে ছিলেন মাসুদ আলী খান। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসাবে চাকরি থেকে অবসর নেন।



