যানজটে বসে থেকে মেজাজ ঠিক রাখতে পারছেন না? বাড়িতে সন্তান কথা না শুনলে রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে?
নানা রকমের আবেগের তালিকায় রাগ মোটেও নেতিবাচক কিছু নয়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে এই রাগ যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়।
মাত্রাতিরিক্তি রাগের কারণে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যে অবনতি ঘটে। সামাজিক সম্পর্কেও ফাটল দেখা দেয় এই দুম করে রেগে যাওয়ার কারণে।
যে কোনো পরিস্থিতিতে মেজাজ হারালে কীভাবে নিজেকে নিজের বশে রাখা যায় তা নিয়ে ১০ তরিকা বাতলে দিয়েছে মায়োক্লিনিক।
বলার আগে ভাবুন
মাথা গরম করে বলে ফেলা অনেক কথার জন্য পরে ভুগতে হয়; অনুতপ্ত হতে হয়। তাই সবার আগে নিজের চিন্তা গুছিয়ে নিন এবং তারপর কথা বলুন। বাকিদেরও এভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রাখুন।
শান্ত ভাবে আশংকার কথা বলুন
কী চাইছেন তা নিজের কাছে খোলাসা হলে তবেই এক এক করে বক্তব্য তুলে ধরুন। আপনার আশংকা এবং প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্ট ভাবেই জানান দিন। তবে কারও মনে আঘাত না দিয়ে।
শরীরচর্চা জরুরি
ব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক চাপ কমায়। এতে করেও রাগের উপশম হয়। যদি কোনো কারণে রাগ চড়ে যেতে থাকে তাহলে বরং একটু হেঁটে আসা ভালো। অথবা বাইরে কিছুক্ষণ দৌড়ে আসা যায়। আবার বাড়িতে বসে যোগাসনও কাজে দেবে।
নিজেকে সময় দিন
শুধু পরিবার ও সন্তানকে সময় দেওয়াই সব নয়; নিজের জন্যও অবসর সময় খুঁজতে হবে। সময় বার করে নিজের মতো শান্ত পরিবেশে বসে থাকুন। এতে পরবর্তী পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস আসবে মনে।
সমাধান খুঁজুন
আপনাকে তিতিবিরক্ত করছে এমন প্রসঙ্গে মনোযোগ না দিয়ে এই ঝামেলা মেটানোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই হবে উত্তম পন্থা। সন্তান ঘর এলোমেলো করে রাখে বলে বিরক্ত হচ্ছেন? আপনার সঙ্গী রোজ দেরি করে বাড়ি ফেরে বলে রাতের খাবারে অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়? এমন হলে মাঝে মাঝে একাই রাতের খাওয়ার পর্ব সেরে নিন। ছুটির দিনে দুজনে একসঙ্গে খাওয়ার পরিকল্পনা করুন। সবকিছু আপনার মন মতো হবে না – এ বিষয়টি মেনে নিতেই হবে। কোনটি আপনি বদল করতে পারবেন এবং কোনটি পারবেন না তা নিয়ে নিজের খুব বাস্তববাদী ধারণা থাকতে হবে।
অন্যকে দোষারোপ পরিহার করুন
অন্যের দোষকে ক্রমাগত বলার চেয়ে আলোচনায় সমাধানের দিকে বারবার মনোযোগ দিতে হবে।
ক্ষমা করে দিন
ক্ষমা করে দেওয়াই জটিল পরিস্থিতি থেকে নিজেকে ভারমুক্ত করার ভালো উপায়। রাগ-ক্রোধ বাড়তে দিলে ইতিবাচক ভাবনার জায়গা কমে আসে। অপরপক্ষকে তার ভুল শোধরানোর সুযোগও দেওয়া ভালো।
মজা করুন
হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়ে পুরো ঘটনা নিয়ে কথা বললে বাড়তি চাপ কমে আসে। তবে খোঁচা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নয়তো পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে।
মন হালকা করুন
মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেলে এমন কোনো কাজ বেছে নিন যা মনকে স্থির করে। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এসময় খুব কাজে দেয়। বারবার নিজেকে বলুন, “সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” কোমল রাগের গান, যন্ত্রসংগীত শুনলেও মনের মেঘ কেটে যাবে।
কারও সহায়তা নিন
মাঝে মাঝে রাগের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে নিজের পক্ষে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ সময় কাছের কারও উপর নির্ভর করুন। তাতে নিজেকে ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হয়ে উঠবে।



